Tuesday, January 20, 2009

প্রসঙ্গঃ ফিরে আসা - লীন

প্রসঙ্গঃ ফিরে আসা
লীন



মনের টানে আসি ছুটে,
তুমি তাড়িয়ে দিলে।
আমি কি আসলেই এতো খারাপ?
দোষটা কি আমার?
ভালোবাসি বলেই এসেছি;
তবু আমায় সহ্য করতে পারোনা।
খিদে পেয়েছে আমার;
তাই ফিরে এলাম।
তুমি আমাকে একটু খেতেও দেবেনা?
তাকিয়ে দেখো এদিকে!
আমি একা আসিনি,
সাথে আমার সব বান্ধবীকে নিয়েই এলাম।
ওহ, না! এ কি!
কি হয়েছে তোমার?
তুমি হঠাৎ আগুন জ্বালাচ্ছো কেন?
জ্বালাও আগুন,
সমস্যা নাই।
আগুন তো ভয় পাই না।
ও প্যাকেটে কি?
সুন্দর রঙ্গিলা বস্তু;
দেখতে তো জিলিপির মত লাগছে!
রান্না করবে?
আমাদের দেবে?
নাহ, আমি তোমার ওই জিলিপি চাইনা।
খিদের জ্বালা,
আর পারছিনা,
দাওনা তোমার একটু রক্ত!
একি, ধোঁয়া কিসের?
দম আটকে যাচ্ছে?
এই কি সেই বিষাক্ত কালোমেঘ?
বুঝেছি বাপু,
এটাই কয়েল।
আমাদের মেরেই শান্তি পাবে তুমি।
চলে যাচ্ছি এবার,
কিন্তু আবার আসবো।
রক্ত না খেলে কি মশা বাঁচতে পারে?

Sunday, January 18, 2009

ভুল - রিটন

ভুল
- রিটন

কবি অনেকদিন পর কবিতা লিখতে বসে,
কলম হাতে থরথর কাঁপে কাগজের পাতা।
মস্তিস্কের শব্দভান্ডার খালি,
পুরাতনবুলি আউড়ে চলে সে।
খসখস শব্দে কাগজের পর কাগজ
গুটি গুটি কালো পোকা হেঁটে হেঁটে চলে,
কি অদ্ভুত দৃশ্য!
কবি মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকে আর ভাবে,
কি ভুলই না করছি এতদিন
কবিতা না লিখে।

অনুভবে তুমি - মেঘের অনেক রঙ

অনুভবে তুমি
মেঘের অনেক রঙ

চলে গেছ দূরে, বহুদূরে, দিব্যলোকের কাছাকাছি,
তোমার ছায়ায়, তোমার মায়ায় বাঁধা আছি সকলে।
তুমি নাই, তুমি নাই, একথা কে বলে?
শরতের শেফালিকা তুমি, ভোরে ঝরে পড় আঙ্গিনায়,
তোমার সুবাসে উষ্ণ পৃথিবী নতুন প্রাণ পায়।

আকাশ ছোঁয়া ঔদার্য্য তোমার, দৃঢ়তা মৈনাকসম,
পাদদেশে বসে করুনা মাঙি সদা অনুপম।
স্রোতস্বিনী হয়ে, দুকূল ছাপিয়ে, ছড়িয়েছ পলিমাটি,
তোমারই জলে সিক্ত হয়ে হয়েছি পরিপাটি।

মহীরূহ তুমি, তোমার ছায়ায় আশ্রয় পায় পড়শী ও গ্রামবাসী,
তোমার স্পর্শে, দুঃখিনী মায়ের মুখে ফুটেছে সুখের হাসি।
তোমার সুরেলা কন্ঠে গুন গুন গান সদা কানেতে বাজে,
সৃষ্টিকর্তার তরে প্রার্থনা বাদ পড়েনিকো কভু শত কাজেরও মাঝে।

অনন্যা তুমি, আলোকিত তুমি, সন্মুখে তুমি নাই।
তোমার আদর্শে, তোমার আলোকে আলোকিত হতে চাই।
নদী যেমন বহু বাকঁ ঘুরে তবে মেশে সাগরের সনে,
জীবনে বহু যুদ্ধ, বহু সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে মিশে গেছ
------ অনন্ত গগনে।

বুক পকেটের জল - ফারজানা মাহবুবা

বুক পকেটের জল
-ফারজানা মাহবুবা

আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি তাকে
কত পদদলন…
তারপরও হারাতে দেয়নি সতেজতাকে
ডানগালে শিশুর মত হাত দিয়ে
জীবনকে দেখে কী বিপুল বিষ্ময়ে
তার নিষ্পাপ চাহনিতে আমি ঘুরে ফিরি
শান্ত কপালে তার এলোচুল বাতাসে খেলে
কেও তাকে বলেছিল তুমি আনমনে চাইলে
আমার হৃদয়ে বৃষ্টি পড়ে ঝিরিঝিরি
অথচ দেখো এখন মেয়েটার চোখে-
চিকচিক ফোঁটাটা আছে আটকে
স্বচ্ছ পাপড়িতে
পলক ফেলো,
ফোটাটা পড়ুক আমার হাতের তালুতে
বিশ্বাস করো, রেখে দেব সিন্দুকে, ভুলে,
তারপর মুছে দেব দু’চোখ,
তোমার চোখের কোণে আমার হৃদয় মেলি।
মেয়ে,
এখনো কি তুমি কেঁপে ওঠো ভয়ে?
ভালবাসা দেখে নিদারুন বিস্ময়ে?
হাত দিয়ে দেখো মেয়ে, তোমার হৃদ্য় নেই তোমার বুকে
ভুল পথে এসে তা এখন আমারই হৃদয়ে ধুকপুকে।
অপলক চোখে এখনো কেন রেখেছ ফোঁটাটা আটকে?
পলক ফেলো,
ফোঁটাটা পড়ুক আমার বুক পকেটে।
অজলে পড়া সেই জল নিয়ে ভরা-রোদে পথ চলি।

লাল নিশান - মাহমুদ

লাল নিশান
- মাহমুদ

অনিশ্চিত যাত্রাপথে নিঃশব্দ অন্ধকার
শীতলতার স্পর্শ আনে
আচমকা কোনো এক ছোবলে মৃত্যুর কান্না
হঠাৎ বেজে ওঠে কানে

দৃষ্টিসীমায় নীল আকাশ হঠাৎ ফুরিয়ে যায়
মুখের ভাষার কোমলতা (তেমনি) পথ হারিয়ে বেড়ায়
এই দুঃস্বপ্ন ভেঙ্গে যায়, ভেঙ্গে যায় এই ঘোর
ঐ দূরে দেখো লাল নিশান, এসেছে নতুন ভোর

সামনে আছে বাধা, আছে শঙ্কার দোলাচল
একটু দাঁড়াও বন্ধু, আসবে ভবিষ্যতে সোনালী ফসল
সমান্তরাল এই যাত্রায় সহযাত্রী আমরা সবাই
লাল নিশানের বার্তা পেয়েছি আলোককীরণে; তাই -

এই দুঃসময় কেটে যাক, আসুক নতুন সময়
আলোর ভেলায় সফলতা আসুক, হতাশা আর নয়।

Design by The Boishakh.com Team

Design by The Boishakh.com Team